দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে আরও ৫০০ শয্যার নতুন ভবন চালু হচ্ছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবনটির উদ্বোধন করবেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অধিকাংশ যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। ভবনটি চালু হলে হাসপাতালের মোট শয্যা সংখ্যা বেড়ে এক হাজারে দাঁড়াবে। ফলে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ বিশেষায়িত স্নায়ুরোগ চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হবে।
১৫ তলা ভবনটির নিচের তিনটি তলা বেজমেন্ট হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখানে পার্কিং ও সার্ভিস সেকশন রয়েছে। ওপরের ১২ তলায় ওয়ার্ড, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও রোগ নির্ণয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা রয়েছে। ভবনটিতে ৪০টি আইসিইউ শয্যা, ২৪টি অস্ত্রোপচার-পরবর্তী শয্যা ও ১১২টি কেবিন রয়েছে।
নতুন ভবনে ১০০ শয্যার বিশেষায়িত ট্রমা ইউনিটও রয়েছে। এখানে ২৪ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের সুবিধা থাকবে। চারটি অস্ত্রোপচার কক্ষের মধ্যে দুটি মডুলার ওটি। এ ছাড়া রয়েছে ৪০ শয্যার আইসিইউ, ২০ শয্যার এইচডিইউ এবং ৬২টি ভেন্টিলেটর।
হাসপাতালটিতে একটি ক্যাথল্যাব, দুটি এমআরআই ও দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার জন্য আধুনিক অটোক্লেভ, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সলিড ওয়েস্ট ডিসপোজাল সিস্টেম এবং পৃথক অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন ভবনটি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। রোগী স্থানান্তরের সুবিধায় এক থেকে তিনতলা পর্যন্ত চলন্ত সিঁড়ির ব্যবস্থাও রয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, এখানে সবচেয়ে বেশি স্ট্রোকের রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য দুর্ঘটনায় মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগী, পার্কিনসন্স, ডিমেনশিয়া, জিবিএস, মৃগী ও হাইড্রোকেফালাসসহ বিভিন্ন স্নায়ুরোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) নতুন ভবনটির উদ্বোধন করবেন। এই ভবনটি চালু হলে হাসপাতালে আরও ৫০০ শয্যা যুক্ত হবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে শয্যাসংকটের কারণে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হয়। উদ্বোধনের পর আমরা আরও অনেক রোগীকে বিশ্বমানের সেবা দিতে পারব।’
হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া স্থাপন করেছিলেন বলেও জানান পরিচালক। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জন্মদিনে তাঁর পুত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধন করবেন। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া ও গর্বের বিষয়।’
এমএম/